Thursday, May 11, 2017

মজার হাসির; কৌতুক

  চালক ও পেসেঞ্জার মজার হাসির; কৌতুক পড়ে মজা পাবেন
চাচা-ভাগ্নে…
চাচা হুজুর। কিন্তু তার ভাগ্নেটা একদম নামাজ পড়ে না। চাচা ভাগ্নেকে অনেক বুঝালেন। কিছুতেই কাজ হলোনা। শেষমেষ চাচা ভাগ্নেকে বললেন।
: তুই এখন থেকে নামাজ পড়লে তোকে ৫টাকা করে দেব।
ভাগ্নেতো কথা শুনে মহা খুশি। সে খুশিমনে নামাজ পড়তে গেল। নামাজ পড়ে এসে চাচাকে বললো,
: চাচা, নামাজ পড়ে এসেছি। এবার টাকা দাও।
: কিসের টাকা? তু্ই নামাজ পড়ছিস নেকী পাইছিস। তোকে আবার টাকা দেব কেন?
: চাচা, আমি জানতাম তুমি এইরকম করবা। আমিও কম যাইনা। আমি নামাজ ঠিক-ই পড়ছি। কিন্তু ওজু করিনাই।
মুলার ক্ষেত….
করিমমিয়ার মুলার ক্ষেত। পোকায় খেয়ে শেষ করে দিচ্ছে। তাই সে গেল কৃষিবিশেষজ্ঞের কাছে।
করিমমিয়াঃ ডাক্তারসাব, আমার মুলার ক্ষেততো পোকায় খেয়ে শেষ করে দিল। এখন কি করি?
কৃষিবিশেষজ্ঞঃ আপনি এক কাজ করুন। পুরো ক্ষেতে নুন ছিটিয়ে দিন।
করিমমিয়াঃ আহা! কি পরামর্শ? নুনছাড়াই খেয়ে শেষ করি ফেইলছে আর নুন দিলেতো কথাই নেই।
হেডফোন….
বিমান চলছে। এক পেসেঞ্জার হঠাৎ করে হুরমুর করে প্লেনের চালকের ঘরে ঢুকে পড়লো। চালকতো অবাক। চালককে আরোও অবাক করে দিয়ে লোকটা চালকের হেডফোনটাকে ছিনিয়ে নিল।
তারপর লোকটা বলল, “হারামজাদা! আমরা টাকা দেব আর তুমি এইখানে বইসা কানে হেডফোন লাগাইয়া গান শুনবা!!
কৌতুক : গরু…..
লোক- এই যে, তুমি যে ভিক্ষা চাইছো, কিভাবে বুঝবো যে তুমি কানা?
ভিক্ষুক- এই যে দূরে একটা গরু দেখতাছেন, ওইটা আমি দেখতাছি না।
কৌতুক : বাঘ….
খুব দুই বন্ধু সুন্দর বনে বেড়াতে গেল। হঠাৎ একটা বাঘ তাদের সামনে এসে হাজির!
১ম বন্ধু বাঘের চোখে একটা ঢিল মেরে দিল একটা দৌড় এবং ২য় বন্ধুকে বলল, দোস্ত, দৌড়ে পালা ….
২য় বন্ধুঃ আমি পালাবো কেন ? আমি কি বাঘের চোখে ঢিল মেরেছি নাকি? তুই বাঘের চোখে ঢিল মেরেছিস , তুই-ই দৌড়ে পালা !!
কৌতুক : রাগ….
একদিন ছেলে বসে পড়ছিল তখন বাবা ছেলের পাসে বসল-
বাবা: তুই সারাদিন এমন চুপ চাপ থাকিস কেন?
ছেলে: কেন বাবা আমিতো কথা বলি।
বাবা: তোকে অযথা এত বকাঝকা করি অথচ কিছু বলিস না। প্রতিবাদ করিস না।
ছেলে: কেন বাবা, আমিতো প্রতিবাদ করি।
বাবা: কই করিস? আমি যে দেখি না।
ছেলে: কেন বাবা তুমি বকা দিলে আমি টয়লেটে যাই।
বাবা: টয়লেটে গেলে কি রাগ কমে? টয়লেটে গিয়ে কি করিস যে রাগ কমে?
ছেলে: টয়লেট ব্রাশ করি।
বাবা: টয়লেট ব্রাশ করলে কি রাগ কমে?
ছেলে: কেন আমি তোমার ব্রাশ (দাঁতের) দিয়ে টয়লেট ব্রাশ করি।
কৌতুক : সাঁতার…..
এক যুবক নৌবাহিনীর সাক্ষাৎকার দিতে এসেছে।
প্রশ্নকর্তাঃ আপনি কি সাঁতার জানেন?
উত্তরদাতাঃ সাঁতার শেখার সুযোগ হয়ে উঠেনি, স্যার।
প্রশ্নকর্তাঃ তাহলে কি ভেবে আপনি নৌবাহিনীর সাক্ষাৎকার দিতে এসেছেন?
উত্তরদাতাঃ মাফ করবেন, স্যার; তাহলে কি আমি মনে করব যে বিমানবাহিনীর আবেদনকারীরা উড়তে শেখার পর আসে।

আমি হাত ছুঁয়ে আছি তোমার

কলমটা ধরে থাকে হাত পরম মমতা নিয়ে,
যখন একে একে সব চলে যায় দৃষ্টি সীমার বাইরে
কলমটা সাথে থেকে যায় ।
জানে না সে উচ্ছিষ্টের মতো ছুড়ে ফেলে দিতে;
খুব বেশি কাছে টানার প্রক্রিয়াও নেই জানা,
জানে না কি করে মানে অভিমানে ভুলাতে হয়
তবু আর সবাই যখন ছেড়ে চলে যায়;
চারপাশে বেজে ওঠে তীব্র বিষাদ নিনাদ;
শুধু সেই ছুঁয়ে থাকে এ হাত ।
পরম মমতা নিয়ে বলে তুমি এগোও-
আমি হাত ছুঁয়ে আছি তোমার ।।

লাশ কাটা ঘর

তারপর দুটি চোখ নিভে গেলে পরে
কিশোরীর ঠাঁই মেলে লাশকাটা ঘরে ।

কেউ তারে ভালোবেসে একদিন
কাছে এসে
বলেছিল , দেখে নিও চিরকাল
রবো পাশে ।

তারপর একদিন অসহ্য আলিঙ্গন
নয়নে নয়নে মেশে জলের বাঁধন

বাইরে ঝড়ের তান্ডব আর
সেই কারো চোখে ঝড় ওঠে কিছু কামনার ।

অবশেষে কিশোরীর আত্মসমর্পন
আত্মসমর্পন কারো অভিমানী হাতে
ফিরিয়ে না দেওয়ার অভিশাপে
অভিশাপ জমে সেই ঝড়ের রাতে।

অধরে অধর মুছে জলছাপ আঁকা শেষে
কারো প্রেম মিশে যায় নিঃশ্বাসে
নিঃশ্বাসে ।

কিশোরী চেয়েছিল ,চেয়েছিল দূরে রয়
একটু কাছে তবে খুব বেশি কাছে নয় ।

তারপর রাত্রির শেষ ,
চেনা ছায়া অচেনা হয়
হিংস্র ঝড়ের তান্ডব থামে ,
আর একা শালিক পড়ে রয় ।

একদিন শেষপ্রহরের বিকেলে
দুনয়নের জলের বাঁধন ছিড়ে
সেই কেউ চলে যায়
চলে যায় ধীরে ।

মায়াশালিকের আর্তনাদে চেনা আকাশে জমে
অচেনা মেঘের জলকেলী ।
আর তারওপরে পৃথিবীটা ভেসে যায় জলের হাহাকারে,
ভেসে যায় কিশোরীর খোপার বেলী ।

তারপর পটাশিয়াম সায়ানাইডে
শেষ আশ্রয় খোঁজা,
অশ্রু ধুয়ে মায়াশালিকের
চিরতরে চিরতরে চোখ দুটি মোছা।

তারপর দুটি চোখ নিভে গেলে পরে
কিশোরীর ঠাঁই মেলে লাশ কাটা ঘরে।

লাশকাটাঘরে ক্ষতবিক্ষত শালিকের ঠোঁটে
যন্ত্রণামাখা হাসি ,সে কারে যেন ডেকে ওঠে ..
কারে যেন ডেকে ওঠে ফের ভালোবেসে।
অভিমান মুছে যায় নীল বিষে।

তারপর লাশ কাটা ঘরে চেনা কারো অপেক্ষায়
জন্ম জন্মান্তর ধরে মৃত শালিকের দিন কেটে যায়।

সোনা বউ একটা করুন প্রেম কাহিনী

***
মিমি আমার হাতটা ওর মুঠোর মধ্যে ধরে রাখে ...

আমার দুচোখ বেয়ে জলের ধারা গড়াচ্ছে, কিছুতেই থামাতে পারছিনা আমি। ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটের সাদা বিছানার চাঁদর চোখের জলে ভিজে যাচ্ছে। আমার খুব ইচ্ছে করছে এখান থেকে ছুটে পালিয়ে যাবার। আমি সহ্য করতে পারছি না কিছুতেই। একেবারেই সহ্য করতে পারছিনা এই পরিস্থিতি। মিমি তাই আমার হাত ধরে আছে।

- আমাকে ছেড়ে যেওনা তুমি, প্লিজ। আমার ভয় করে।

আমার খুব ইচ্ছে করছে ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি। ছেলে মানুষের কান্নাটা ফুরিয়ে যায় সেই ছোটবেলাতেই। এর পর ছেলেরা আর কাঁদে না, কাঁদতে পারেনা, অথবা কাঁদতে হয় না। পুরুষ মানুষ হবে পাথরের মত। শত আঘাতেও থাকবে স্থির। আমিও তো এমনই ছিলাম। আবেগ জিনিসটাকে প্রশ্রয় দেইনি কখনও। কিন্তু আজ আমার ভেতরের পাথর চাঁপা আবেগ গলে গিয়ে অগ্নিগিরির লাভার স্রোতের মত আমার চোখের কোণ পুড়িয়ে দিয়ে নেমে আসছে বিছানায়।

- দেখো, তুমি এমন করে ভেঙ্গে পড়লে চলবে? বাবুটাকে দেখবে কে বলো? আমাদের একটাই বাবু, ছোট্ট, এত্তটুকু।

গলা ধরে আসে মিমির।

আমি আর পারি না, ঝটকা দিয়ে মিমির হাত ছাড়িয়ে নেই। দরজা পর্যন্ত গিয়ে থমকে দাঁড়াই। না, বাবুকে এখানে আনা যাবে না। আমাদের বাবুটা এই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেড়ে উঠুক, এটা চাইনা আমি। ছুটে এসে মিমির হাত ধরি। ও কিভাবে যেন বুঝে যায় -

- বাবুকে এনো না কাছে। বাবু আমাকে এভাবে দেখুক আমি চাই না।

গলার স্বর নিস্তেজ হয়ে আসছে মিমির। প্রতি মুহূর্তে ও একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে।

- এই শোনো, তোমার সোনা বউটার না খুব ভয় করছে। তুমি তাকে একটা গল্প শোনাও না, প্লিজ ... ওই যে, বিয়ের রাতে আমাকে যে গল্পটা শুনিয়েছিলে, সেই পাতার গল্পটা ...

কি চমৎকার একটা দিন ছিল সেদিন। ভালবাসাবাসির শুরুতেই আমরা বুঝে গেছিলাম, একে ছাড়া আমার চলবে না কিছুতেই। তাই বিয়ের জন্য ভাবতে হয়নি একেবারেই। আমার দুই বন্ধু আর ওর দুই বান্ধবী ছিল বিয়ের সাক্ষী। কোর্টের ঝামেলা মিটিয়ে আমরা চলে গেছিলাম চাইনিজ হোটেলে। নিজেকে খুব সুখী আর পূর্ণ মানুষ বলে মনে হচ্ছিল। এক নিমিষে ছেলেমানুষি গুলো হাওয়া হয়ে গেছিলো। বিয়ের পর যখন আমি ওর হাত ধরলাম সেদিন, আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এই মানুষটাকে আমি কোন দিন কোন কষ্ট পেতে দেবো না। যতই দুঃখ আসুক, আমি নিজে ঢাল হয়ে সামনে দাঁড়াবো।

সেদিন রাতে, আমাদের বাসর হয়েছিল নবীনদের ছোট্ট বাসাটায়। অনেক রাত পর্যন্ত ওরা যন্ত্রণা দিয়ে দিয়ে পাগল বানিয়ে ছেড়েছিল আমাদের। এরপর না না রকম দুষ্টু ইঙ্গিতপুর্ণ কথা বলে ঘর ছেড়েছিল সবাই। আমি দরজা বন্ধ করে বিছানার কাছে আসতেই মিমি বলেছিল - "একটু দাঁড়াও"। আমি বুঝিনি ও কি করতে চায়। মিমি বিছানা থেকে উঠে এসে মাথায় ঘোমটা টেনে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো আমাকে। আমি তাড়াতাড়ি ওকে দুহাতে ধরে তুলে চুমু খেলাম ওর কপালে। এরপর অনেকক্ষণ ও মিশে রইলো আমার বুকের সাথে। এক সময় আমার বুকের ভেতর থেকেই বলে উঠলো - "চলো বারান্দায় গিয়ে বসি"। আমি সায় দিলাম, কিন্তু ও নড়লো না। বললাম - "চলো যাই"। "আমার যে এখান থেকে নড়তে ইচ্ছে করছে না, হাঁটতেও ইচ্ছে করছে না, কিন্তু বারান্দায় যেতে ইচ্ছে করছে"। আমি বললাম - "তাহলে আমার পায়ের উপর উঠে এসো"। ও একটু অবাক হয়ে আমার পায়ের উপর ওর পা রাখলো। আমি ওকে জড়িয়ে ধরেই আস্তে আস্তে হেঁটে বারান্দা পর্যন্ত এলাম। সেদিন বারান্দায়, আমার কোলে মাথা দিয়ে মিমি একই ভাবে বলেছিল একটা গল্প শোনাতে।

- "এক দেশে ছিল এক দস্যি পাতা। দমকা হাওয়ায় উড়তে উড়তে সেই পাতাটা একদিন গিয়ে পড়লো বিশাল এক দিঘীর মাঝখানে। পানিতে পড়ে দস্যি পাতাটা আর উড়তে না পেরে ছটফট করতে লাগলো মুক্তি পাবার জন্য। অনেক চেষ্টার পর পাতাটা এক সময় দিঘীর পাড়ে এসে পৌছাতে পারলো। মুক্তির আনন্দে নেচে উঠতে যাবে পাতাটা, সেই সময় সে দেখতে পেল দিঘীর পাড়ে একাকী বসে একটি মেয়ে। মেয়েটার রূপ আগুন ঝরায় না, বরং তার স্নিগ্ধতা ছড়ীয়ে পড়ে পুকুরের পানিতে, পানি থেকে আকাশে। পাতাটা অবাক হয়ে দেখে, কি আশ্চর্য রকম নীরব হয়ে গেল প্রকৃতি তখন। থেমে গেল দমকা হাওয়া, দিঘীর কালো জল শান্ত হয়ে এলো। পাতাটা ভাসতে ভাসতে মেয়েটার খুব কাছে চলে এলো। মেয়েটা কেন যেন পাতাটাকে দেখে খুশী হয়ে উঠলো, বললো - "ও মা, কি সুন্দর একটা পাতা। এই পাতা, তুমি কোত্থেকে এলে এখানে?"। পাতা কিছুই বলতে পারলো না, শুধু অপলক চেয়ে রইলো মেয়েটির দিকে। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো - এই দিঘি ছেড়ে সে কোথাও যাবে না, কোন দিনও না।"

সেদিনের মতই আজও মিমির গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে মুক্তো কণা। আজও মিমি শক্ত করে ধরে আছে আমার হাতটা ওর হাতের মুঠোয়।

সেদিন আমার চোখে অশ্রু ছিলনা ... আজ আমার চোখেও অশ্রু। মিমি হারিয়ে যাচ্ছে আমার জীবন থেকে। আমি কোন ভাবেই ধরে রাখতে পারছি না ওকে আমার জীবনে। অনেকক্ষণ চেষ্টা করে ডাক্তার আশা ছেড়ে দিয়েছেন, বলে দিয়েছেন মিমি আর কয়েক ঘণ্টা মাত্র থাকবে আমাদের সাথে। প্রার্থনা ছাড়া আর কিছুই করবার নেই এখন।

আমি মিমির হাতটা জড়িয়ে ধরে বিছানার পাশে বসে আছি ... চারিদিক কেমন শূন্য লাগছে আমার ...

আমার সোনা বউটা একটু একটু করে দূরে চলে যাচ্ছে আমাদের সবার কাছ থেকে ... দূরে চলে যাচ্ছে ... দূরে চলে যাচ্ছে

একটি সাদামাটা প্রেমের গল্প

গল্পের শুরুটা সাধারণ।
একসাথে পড়তাম ২জন।আলাদা ব্যাচ,প্রথম দেখা কলেজে,মিড টার্ম পরীক্ষার সময়।তার পর কথা শুরু।প্রথমে অল্প,আস্তে আস্তে বাড়ল। একদিন ফোন নাম্বারটাও পেলাম।তখন কথা হত পড়াশোনা নিয়ে,আমার অগোছালো ছাত্রজীবন আর তার সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।সে আমার সাথে মিশত শুধুই সাজেশানের জন্য।কিন্তু অন্য ছেলেদের সে যেমন ভাব দেখাত আমার সাথে ওই আচরণ পাইনি বলেই হয়ত ওর প্রতি আমার একটা মায়া ছিল।প্রেম তখনও অনেক দূর।

HSC পরীক্ষা দেয়ার পর ও চলে গেল শহর ছেড়ে, আর আমি রয়ে গেলাম , তখনও কথা হত ফোনে,প্রায়ই আমার উদ্ভট গল্প শুনে ও খিলখিল করে হাসত,আমার বুকে অন্য রকম একটা অনুভূতি হত।বুঝলাম তাকে আমার ভাল লাগে,কিন্তু সে একদিন বলে যে তার কাউকে ভাল লাগে।খুব খারাপ লাগল,কেন নিজেই জানিনা।রেজাল্ট হবার পর হল আসল মজা,ওর রেজাল্ট খারাপ হয়ে গেল,ও প্রায় রাতে কাদত,আমি সান্তনা দিতাম,খুব খারাপ লাগত ওর কান্না শুনে।কিবা আর করতে পারি তখন,তাকে বলতাম সব ঠিক হয়ে যাবে। তারপর থেকে আমার সাথে সম্পর্ক টা আরও গাঢ় হল,কিন্তু তাকে বলতে পারতাম না ভালবাসার কথা,পাছে হারাতে হয় প্রিয় বন্ধুটাকে।তাই দূর থেকে ভালবাসতাম।ভর্তি পরীক্ষার পর ও চান্স পায় চট্টগ্রামে আর আমি চট্টগ্রাম,সিলেট দু জায়গায়।ওর কাছে জানতে চাই কোথায় পড়ব?
ও বলে যেখানে আমার ইচ্ছা,কিন্তু ওর চোখের ভাষা বলছিল আমি যেন এখানেই থাকি।কিভাবে তা বুঝেছিলাম জানিনা,জানি আমার বোঝায় ভুল ছিল না।
এক বিকেলে সে বলল তার ঐ পছন্দের মানুষকে ও ভুলে গেছে,খুব খুশি লাগল,কিন্ত আবার বলল এখন তার অন্য একজন কে ভাল লাগে,চোখে অন্ধকার দেখলাম।ও বলল তার এই ভাললাগার মানুষটি আমি।ভাবলাম ছাদ থেকে লাফ দিব(খুশিতে)। সেই থেকে আমাদের সম্পর্ক আজ ১ বছর ৮ মাস ২৭ দিন।ও পড়াশোনা নিয়ে থাকে,আমি আড্ডা নিয়ে,আমার vagabond ভাবের কারণে ইচ্ছামত বকাঝকা করে।ওর শরীর একটু খারাপ হলেই আমার মেজাজ খারাপ হয়,কারও ফোন off থাকলে আরেকজনের চিন্তার শেষ নাই।
বন্ধুদের অনেকেই প্রেম করে।তাদের প্রেমের definition আমাদের সাথে মেলে না।অনুভূতির প্রকাশ আমাদের দুজনের কাছেই দুর্বলতার প্রকাশ।ভালবাসি একে অপরকে এটা জেনেই ঘুমাতে যাই।এটাই কি যথেষ্ট নয়? তবু কিছু সুখস্মৃতি থাকে। পূর্নিমার সন্ধ্যায় রিকশায় চড়া,একসাথে বৃষ্টিতে ভেজা,বিকেলের ট্রেনে তাকে ভার্সিটি পৌছে দেয়া,দুই হলের ছাদে উঠে রাত জেগে দুজনের গল্প করা,ভবিষ্যতের অদ্ভুত সব পরিকল্পনা,বন্ধুদের চোখ ফাকি দিয়ে পহেলা বৈশাখে ঘোরা(আমাদের relation এর কথা কেউ জানেনা।সবাই জানে আমরা ভাল friend) কিংবা বর্ষায় তার দেয়া কদম ফুল।
ভালই আছি আমরা ।

New Song Bograr Pola Hero Alom বগুড়ার পোলা হিরো আলম Latest Music Video 2017


Imran & Nishi - Drishtir Alapon দৃষ্টির আলাপন | Bangla New Song 2017 | New Music Video


ইম্রান এর গান না শুনলে লস করবেন


dhoha ইমরানের নতুন আল্বামের গান


হির আলমের একটা গান বিশ্ব সেরা হয়েছে


দেখুন হির আলমের সাথে মুস্ফিকুরের ইন্তের ভিউ


হির আলমের একটা গান দেখুন একবার


সারে গামা পা লিল চাম্পাচে ছোট দের গাওয়া একটি অসাধারন গান


Menu khen de হিমেস এর একটি অসাধারন গান


আজ ১২ মে ২০১৭ ।বাংলাদেশের খবর দেখুন


Wednesday, May 10, 2017

মনির খানের সেরা ৩৬ টি গান


sakib khan এর বস গিরি


তাহসান ও মিতিলাড় মিষ্টি প্রেমের নাটক he and she


সব থেকে জনপ্রিয় কিছু হিন্দি গান একবার দেখে নিন


বাংলাদেশী ক্রিকেটার সৌম্য সরকারের জীবনী

ফুল নাম: সৌম্য সরকার
জন্ম তারিখ: 25 ফেব্রুয়ারি, 1993
জন্ম স্থান: সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ
উচ্চতা: 5 ফুট 10 ইঞ্চি
পেশা: ক্রিকেটার
রোল: অলরাউন্ডার
ব্যাটিংয়ের ধরণ: বামহাতি
বোলিংয়ের ধরণ: ডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট
বান্ধবী: N / A
ধর্ম: হিন্দুধর্ম
সৌম্য সরকার বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ ওপেনিং  ক্রিকেটার। 23 এপ্রিল, 2015 তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন সৌম্য সরকার।  ইতিমধ্যে তিনি একজন সফল ওপেনার যেখানে বাংলাদেশ টিম ঘন ঘন সমস্যা সম্মুখীন হবে তার সক্ষমতার প্রমাণ রাখে।

সৌম্য সরকার প্রারম্ভিক জীবন:
সৌম্য সরকার 25 ফেব্রুয়ারি, 1993 বাংলাদেশে  সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। কিশোর মোহন সরকার তার পিতা।  অন্যান্য বাংলাদেশী সফল ক্রিকেটার মতো তিনিও বিকেএসপির চর্চিত যেখানে তিনি ভাল ক্রিকেট শিখেছে
। তিনি 2012 সালে অনূর্ধ্ব -19 বিশ্বকাপে অংশ নেন এবং এই টুর্নামেন্টে ভয়ঙ্কর কর্মক্ষমতা দেখিয়েছে। তার প্রথম জীবনে, সৌম্য সরকার একজন শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি ক্রিকেট বিশ্বে ক্যারিয়ার বিল্ড আপ করেন।


সৌম্য সরকার ক্যারিয়ার:
সৌম্য সরকার এখন টাইগার ক্রিকেট অঙ্গনে  ডিসেম্বর 01, 2014. জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। আশ্চর্যজনক খুব অল্প সময়ের মধ্যেই  তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে যায়। ক্রিকেট বিশ্বের মাঝে নিজেকে একটি মধ্যে সক্রিয় প্রায় উঠতি তারকা হিসেবে প্রমাণ রাখছেন। হোম সিরিজে বিশ্বকাপের পর তিনি মিরপুর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম একশ করেছেন. বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য একটি সফল টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। 

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:
1. 22 এপ্রিল 2015 পাকিস্তানে
2. 12 জুলাই 2015 দক্ষিণ আফ্রিকায়
3.15 জুলাই 2015 দক্ষিণ আফ্রিকায়

সিরিজের পুরষ্কার প্লেয়ার হন 2015 তে দল দক্ষিণ আফ্রিকা।


টোয়েন্টি 20 আন্তর্জাতিক ক্রিকেট:

ম্যাচ সেরা  পুরস্কার :
1. 2 মার্চ 2016 পাকিস্তানে

ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাব্বির রহমানের জীবনী

পূর্ণ নাম: মোহাম্মদ সাব্বির রহমান
জন্ম তারিখ: 22 নভেম্বর, 1991
জন্ম স্থান: রাজশাহী, বাংলাদেশ
পেশা: ক্রিকেটার
ভূমিকা বাজানো: অলরাউন্ডার
ব্যাটিংয়ের ধরণ: ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরণ: লেগব্রেক
বান্ধবী: N / A
ধর্ম: ইসলাম

সাব্বির রহমান একজন অন্যতম সেরা  বাংলাদেশী ক্রিকেটার যিনি তার কঠিন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী জন্য পরিচিত।  বাংলাদেশি অলরাউন্ডার, সাব্বির রহমান বিশ্বকাপ 2015 সালে তার ভয়ঙ্কর কর্মক্ষমতা দেখিয়েছে। এরপর থেকে  ধারাবাহিক ভাবেই তিনি তার ব্যটিং  নৈপুণ্যতা দেখিয়ে আসছেন।


সাব্বির রহমান প্রাথমিক জীবন:

বাংলাদেশি ক্রিকেটার সাব্বির রহমান পিতা খাজা আহমেদ ও মা হাজেরা খাতুন।  রাজশাহী, জেলায় 22 নভেম্বর, 1991 সালে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবের থেকে তিনি ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী ছিল বাংলাদেশশের সেরা ক্রিকেটার হয়ে.

সাব্বির রহমান ক্যারিয়ার:

আক্রমনাত্মক বাংলাদেশী ক্রিকেটার সাব্বির রহমান ন্যাশনাল টিম প্রবেশদ্বারে জন্য নির্বাচকদের নজর কারতে সক্ষম ছিলেন। 21 নভেম্বর 2014 জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় সাব্বির রহমানের । একই বছরে, সাব্বির চট্টগ্রাম, 14 ফেব্রুয়ারী, 2014 এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে T20 তার অভিষেক মিরপুরে 2015 সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সাব্বির রহমান লোয়ার অর্ডার বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান তার  চমৎকার ফিল্ডিং সামর্থ্য রয়েছে। বেশিরভাগ সময়ে, তিনি বাংলাদেশী ইনিংসের নিম্নদেশ একটি মূল্যবান অবদান তোলে। তিনি একজন বাংলাদেশী ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবং লেগ ব্রেক বোলার।  বাংলাদেশি ক্রিকেটার সাব্বির রহমান একজন দক্ষ, সেরা  শক্তিশালী খেলোয়ার যার ফলে সে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রচুর দর্শক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:
1. ১৪ এপ্রিল ২০১৫ দল পাকিস্তান
2. ১৭ জানোয়ারি ২০১৬ দল জিম্বাবুয়ে
3. ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ দল শ্রিলংঙ্কা

জেনে নিন ক্রিকেটার তাসকিন সম্পর্কে কিছু তথ্য।

পূর্ণ নাম: তাসকিন আহমেদ
ডাকনাম: Tazim
জন্ম তারিখ: এপ্রিল 03, 1995
জন্ম স্থান: মোহাম্মদপুর, ঢাকা
শিক্ষা: বাংলাদেশের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি
উচ্চতা: 6 ফুট 2 ইঞ্চি
পেশা: ক্রিকেটার
খেলার রোল: বোলার
ব্যাটিংয়ের ধরণ: বামহাতি
বোলিংয়ের ধরণ: ডানহাতি ফাস্ট
স্বামী বা স্ত্রী (গুলি): N / A
ধর্ম: ইসলাম

তাসকিন আহমেদ একজন বাংলাদেশী উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেটার, যিনি গত বিশ্বকাপে একটি চমৎকার  কর্মক্ষমতা দেখিয়েছেন।  তিনি ডানহাতি পেস বোলার এবং ব্যাটসম্যান বামহাতি।

তাসকিন আহমেদ প্রারম্ভিক জীবন:
তাসকিন আহমেদ মোহাম্মদপুর, ঢাকা এপ্রিল 03, 1995 সালে  জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুর রশিদ এবং মা ইয়াসমিন। তিনি কিং খালেদ ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি এবং স্ট্যানফোর্ড কলেজ থেকে এইসএসসি সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তাসকিন
বাংলাদেশের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পড়তেছেন। স্থানীয় মাঠে তিনি প্রথম জীবনে ক্রিকেট অনুশীলন করেন। প্রাথমিক জীবনের সেই অনুশীলন এখনো আবেগ ভরে করেন তিনি। বতর্মানে মোহাম্মদপুরের সেই মাঠ সবার কাছেই খুব জনপ্রিয়।

তাসকিন আহমেদ ক্যারিয়ার:

তাসকিন আহমেদ ঢাকা মেট্রোপলিটনের  প্লেয়ার হিসাবে 2011 সালে তার প্রথম আত্মপ্রকাশ। তিনি বিপিএলে চিটাগং কিংস (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ) এর প্রতিনিধিত্ব করে 4 উইকেট পাই মাঠে তাঁর প্রথম ভয়ঙ্কর পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাই।
তাসকিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত 2014 সালের বিশ্বকাপে T20 ম্যাচ দ্বারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয। তিনি 17 জুন, 2014 ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয়, এবং 5 উইকেট পেয়েছেন, একমাত্র বাংলাদেশী খেলোয়াড় যিনি  অভিষেক ম্যাচে 5 উইকেট পান।  2015 বিশ্বকাপে, তিনি বাংলাদেশের অন্যতম ক্রিকেটার সেরা   কর্মক্ষমতা দেখিয়েছে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে 3 উইকেট নেওয়ার ফলে বাংলাদেশ বড় স্কুরকা এ জিতে যায়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা: একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস


banner.previewইতিহাস পর্যালোচনা করলে এটি সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, বাঙালির ভাগ্য পরিক্রমা চিরদিন ঘড়ির কাঁটার উল্টোদিকে ঘুরেছে। ভাগ্য বিপর্যয় বারবার দাসত্বের আকারে তাদের ললাটলিখন হয়ে আবির্ভূত হয়। ১৭৫৭ সালে পলাশীর ময়দানে লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে মরণপণ যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। যদিও এ পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল সিরাজউদ্দৌলার সেনাপতি মীর জাফর আলি খাঁ ও তার অনুচরদের বিশ্বাসঘাতকতা। এ যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রায় দু শ’ বছরের জন্য অস্তমিত হয়ে যায়। এর পরের ইতিহাস ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার, অনাচার, নির্যাতন আর বঞ্চনার নির্মম ইতিহাস। কিন্তু বাঙালি জনগণ কখনোই ওই ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণকে মেনে নেয়নি। এর বড় আকারে প্রকাশ ঘটে ১৮৫৭ সালে। এ সময় জনতার অসন্তোষ সিপাহী বিদ্রোহের আকারে রূপ নেয়, যদিও তা চূড়ান্ত সফলতার মুখ দেখতে পায়নি। পরবর্তীতে বাংলার বীর সন্তান তিতুমীর, টিপু সুলতান ও হাজী শরীয়তুল¬াহ প্রমুখের প্রতিরোধ সংগ্রাম, চট্টগ্রামের বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন প্রমুখের সশস্ত্র প্রতিবাদ।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার জন্য গঠিত হয় ভারতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ। এ দুটি দলের মাধ্যমে চলে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা এবং অসহযোগ আন্দোলন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ দু ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান নামে দুটো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারতবর্ষের পূর্ব ও পশ্চিম এর দুটো অংশ নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। কিন্তু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় দেড় হাজার মাইলের মতো। স্বাধীন হয়েও পূর্ব পাকিস্তান ধীরে ধীরে পশ্চিম পাকিস্তানের কলোনি হয়ে ওঠে, এখানকার বাঙালিরা আগের মতোই রয়ে গেল বঞ্চিত। পরিবর্তন হলো না তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার।
পাকিস্তান শাসনামল (১৯৪৭-১৯৭১):
পাকিস্তান মূলত এমন একটি দেশ ছিলো যার দু খণ্ডের মানুষে-মানুষে শুধুমাত্র ধর্ম ছাড়া আর কোনই মিল ছিল না। হাজার মাইলের দূরত্ব ছাড়াও সংস্কৃতি, ভাষা, আচার-আচরণ এমনকি অর্থনৈতিক অবস্থানেও ছিল ব্যাপক ব্যবধান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি অনুসন্ধান করে দেখা যায় ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণমূলক আচরণ। কেবল অর্থনৈতিক শোষণ নয়, বাঙ্গালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপরও নিপীড়ন শুরু হয় এবং এর প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় যখন পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা দেন “উর্দু এবং কেবলমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ জিন্নাহর এ ঘোষণা জনগণ মেনে নেয়নি। যার ফলশ্র“তিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫১ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্র-জনতা। পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়ে আহমদ, রফিক ও জব্বাররা প্রমাণ করে যায় যে, পৃথিবীতে একমাত্র জাতি হিসেবে আমরা বাঙ্গালিরাই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি।
ওই সময়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী:
১৯৫৪: নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিপক্ষে যুক্তফ্রন্টের জয়। ঐ বছরের ৩ এপ্রিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুক হক চার সদস্য বিশিষ্ট যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন। কিন্তু ৩১ মে পাকিস্তানের গভনর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিপরিষদ বাতিল করে দিয়ে শাসনতন্ত্রের ৯২ (ক) ধারা জারির মাধ্যমে প্রদেশে গভর্নরের শাসন প্রবর্তন করেন।
১৯৫৬: ২৩ মার্চ ১৯৫৬ পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কবে কার্যকর হয় এবং এ বছর পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
১৯৫৮: আইয়ুব খানের নেতৃত্বে সামরিক শাসন জারি।
১৯৬২: ছাত্রদের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন শুরু।
১৯৬৬: আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবর রহমান ছয় দফা দাবি নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করেন।
১৯৬৮: শেখ মুজিবর রহমান, কিছু বাঙালি সাধারণ মানুষ এবং সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি তাদের ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে।
১৯৬৯: আইয়ুব বিরোধী গণঅভ্যুত্থান চরম রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদ, নবকুমার স্কুলের ছাত্র মতিউর রহমান এবং গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা
১৯৭০: জেনারেল আইয়ুব খান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে যান। চরম চাপের মুখে ইয়াহিয়া খান সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পায়, যা সমগ্র পাকিস্তানের সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। তৎকালীন সামরিক সরকার ফলাফল মেনে নিলেও বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে।
উত্তাল মার্চ (১৯৭১):
নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের অধিকার অর্জন করলেও ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না। যদিও ৩ মার্চ ১৯৭১, ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ নির্ধারিত হয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানের পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বোনা শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ কোনো কারণ ছাড়াই ৩ তারিখের নির্ধারিত অধিবেশন বাতিল করা হয়। ক্ষুব্ধ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ধৈর্যের শেষ সীমা ছাড়িয়ে যায় এই সিদ্ধান্তে। সারাদেশে বিক্ষোভের বিস্ফোরণ হয়। ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাদেশে পাঁচ দিনের হরতাল এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। শুধুমাত্র তাঁর মুখের কথায় পুরো পূর্ব পাকিস্তান অচল হয়ে যায়। সরকার কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, কিন্তু বাঙ্গালি জনগণ রাজপথেই অবস্থান করে। পাঁচ দিন হরতাল শেষে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। ঘোষণা করেন- “এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।
সারাদেশ যখন ক্ষোভে উত্তাল তখন সামরিক বাহিনীতে চলতে থাকে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার পূর্বপ্রস্তুতি। বেলুচিস্তানের কসাই হিসেবে পরিচিত জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর হিসেবে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়, কিন্তু কোন বাঙ্গালি বিচারপতি তাকে শপথ পাঠ করাতে রাজি হয়নি। এদিকে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার করতে থাকে, অপরদিকে চলতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র প্রেরণ।
অপারেশন সার্চলাইট:
1971-25-march২৫ মার্চ রাতে জেনারেল ইয়াহিয়া পাকিস্তানি বাহিনীকে বাঙ্গালি নিধনযজ্ঞের সবুজ সংকেত প্রদান করে সন্ধ্যায় গোপনে পশ্চিম পাকিস্তান যাত্রা করে। সে রাতেই পাকিস্তান বাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের হত্যাযজ্ঞ, যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙ্গালিদের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া। এরই অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়, নির্বিচারে শহীদ করা হয় সারা বাংলাদেশের অসহায় ও নিরপরাধ সাধারণ মানুষদের।
হত্যাকাণ্ডের সংবাদ যাতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে না পৌঁছায় সে লক্ষ্যে ২৫ মার্চের আগেই ঢাকা থেকে সব বিদেশি সাংবাদিককে বের করে দেয়া হয়। এ রকম একটি অবস্থায়ও সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে এই গণহত্যার খবর জানিয়েছিলেন। যদিও এই হত্যাযজ্ঞের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা, কিন্তু বাঙালি হত্যা পুরো দেশজুড়ে চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে তারা চালায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। একমাত্র হিন্দু আবাসিক হল জগন্নাথ হল পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়। এতে ছয় শ’ থেকে সাত শ’ আবাসিক ছাত্র নিহত হয়। যদিও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করে, কিন্তু হামিদুর রহমান কমিশনের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে।
স্বাধীনতার ঘোষণা:
টেক্সাসে বসাবাসরত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত নথি সংগ্রহক মাহবুবুর রহমান জালাল বলেন, “বিভিন্ন সূত্র ও দলিল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই প্রমাণ হয় যে, ২৬-এ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যা ছিল তার বা অন্য কারো হয়ে ঘোষণা দেয়ার অনেক পূর্বে। ২৫ মার্চে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক ভেঙে গেলে ইয়াহিয়া গোপণে ইসলামাবাদে ফিরে যান। এবং গণহত্যা চালানোর পর পাকিস্তানি সেনারা সেই রাতেই বঙ্গবন্ধুসহ তার পাঁচ বিশ্বস্ত সহকারীকে গ্রেফতার করে।  গ্রেফাতারের পূর্বে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে যান। মূল ঘোষণার অনুবাদ নিম্নরূপ:
“এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর
বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।”
বিভিন্ন মাধ্যমে ঘোষণাপত্র:
২৫-শে মার্চ থেকে ঢাকার হোটেল ইন্টারকোন্টিনেন্টালে অবস্থানরত সকল সাংবাদিককে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ২ দিন যাবৎ অবরুদ্ধ করে রাখে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র  থেকে ঘোষণা হয় যে “শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে সাড়ে সাত কোটি জনগণকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা দেশের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছেন”। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে স্বাধীনতার মূল ঘোষক কে ছিলেন তা নিয়ে ব্যপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে ১৯৮২ সালে সরকারিভাবে একটি ইতিহাস পুস্তক প্রকাশিত হয় যাতে ৩টি বিষয় উপস্থাপিত হয়।
# শেখ মুজিবুর রহমান একটি ঘোষণাপত্র লিখেন ২৫-এ মার্চ মাঝ রাত কিংবা ২৬–শে মার্চ প্রথম প্রহরে।
# শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণাপত্রটি ২৬ তারিখে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। কিন্তু সীমিতসংখ্যক মানুষ সেই সম্প্রচারটি শুনেছিল।
# পূর্ব বাংলা রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের হয়ে ২৭-শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রচার করে, ফলে বিশ্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে জানতে পারে। ঘোষণাটি ছিল নিম্নরূপ:
“On behalf of our great national leader, supreme commander of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman do hereby proclaim the independence of Bangladesh. It is further proclaimed that Sheikh Mujibor Rahman is sole leader of elected representatives of 75 million people of Bangladesh. I therefore appeal on behalf of our great leader Sheikh Mujibur Rahman to the government of all democratic countries of the world specially big world part and neighboring countries to take effective steps to stop immediately. The awful genocide that has been carried on by the army of occupation from Pakistan. The legally elected representatives of the majority of the people as repressionist, it is cruel joke and contradiction in terms which should be fool none. The guiding principle of a new step will be first neutrality, second peace and third friendship to all and anonymity to none. ─ May Allah help us, Joy Bangla.”
অনুবাদ:
“আমাদের মহান নেতা, বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের হয়ে আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। এটি আরও ঘোষণা করা হচ্ছে যে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একমাত্র নেতা হচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমান। আমি সেই কারণে আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের হয়ে বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিশেষ করে বৃহৎ বিশ্ব ও প্রতিবেশীদের কাছে কার্যকারী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হামলার ফলে ভয়াবহ গণহত্যা শুরু হয়েছে। অধিকাংশ জনগণের বৈধভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নিপীড়নকারী, এটি একটি ক্রূর কৌতুক ও মিথ্যা অপবাদ যার কাউকে বোকা বানানো উচিৎ নয়। বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে প্রথম হতে হবে নিরপেক্ষতা, দ্বিতীয় শান্তি এং তৃতীয় সকলের সাথে বন্ধুভাবপন্ন ও কারো সম্বন্ধে অজ্ঞানতা নয়। ─ আল্লাহ্ সহায় হোক, জয় বাংলা। (সূত্র: উইকিপিডিয়া)
অস্থায়ী সরকার গঠন:
1971-25-march১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয় কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমা (বর্তমানে জেলা মেহেরপুর) বৈদ্যনাথতলার অন্তর্গত ভবেরপাড়া (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামে। শেখ মুজিবুর রহমান এর অনুপস্থিতিতে তাঁকে রাষ্ট্রপতি করে সরকার গঠন করা হয়। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব দেয়া হয় সৈয়দ নজরুল ইসলামকে, আর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পিত হয় তাজউদ্দীন আহমদ এর ওপর। বাংলাদেশের প্রথম সরকার দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের সামনে শপথ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করে। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন গণপরিষদের সদস্য এম ইউসুফ আলী। এ ঘোষণাপত্র প্রবাসী সরকারের অবস্থান ও যৌক্তিকতা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে। এদিনই ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়া হয় এবং একই সঙ্গে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারও বৈধ বলে স্বীকৃত হয়। এ ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকলের মধ্যে চেইন অফ কমান্ড স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়।
সময়ের পরিক্রমায় যুদ্ধের রূপ/ক্ষেত্র
মার্চ থেকে জুন
ঢাকায় গণহত্যা চালানোর পর পাকিস্তানি বাহিনী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সারা বাংলাদেশ নিজেদের আয়ত্তে আনার পরিকল্পনা করে। কিন্তু বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এবং ছাত্র ও সাধারণ জনতা তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। চট্টগ্রামে বাঙ্গালি সেনাবাহিনীর সদস্য ও ইপিআর এর সদস্যরা বিদ্রোহ করে শহরের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ পেতে পাকিস্তানি বাহিনীকে যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ করতে হয় এবং বিমান আক্রমণ চালাতে হয়। কুষ্টিয়া, পাবনা, বগুড়া ও দিনাজপুর ইত্যাদি জেলাতেও বাঙ্গালি সেনারা বিদ্রোহ করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে পাকিস্তানিরা বিপুল সংখ্যক সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্রের বলে মে মাসের শেষ নাগাদ এসব মুক্তাঞ্চল দখল করে নেয়। মার্চের শেষ দিক হতেই পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া শরণার্থীদের এই স্রোত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল এবং এ সময়ে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর
imagesমুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধগুলো ছিল অনেকটাই পরিকল্পনাহীন। অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হবার পর ধীরে ধীরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই পরিকল্পিত রূপ পেতে শুরু করে। ১১ জুলাই বাংলাদেশের সামরিক কমান্ড তৈরি করা হয়। কর্ণেল এম.এ.জি ওসমানীকে কমান্ডার ইন চিফ, লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আবদুর রবকে চিফ অফ আর্মি স্টাফ এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকারকে ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ ও চিফ অফ এয়ার ফোর্সের দায়িত্ব দেয়া হয়। বাংলাদেশকে সর্বমোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রতিটি সেক্টরের জন্যে একজন করে কমান্ডার নির্বাচন করা হয়। ১০নং সেক্টরটি ছিল কমান্ডার ইন চিফের (সি-ইন-সি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে, যার মধ্যে নৌ-বাহিনী ও সি-ইন-সির বিশেষ বাহিনীও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে উপযুক্ত কোন কর্মকর্তা ছিল না বলে ১১নং সেক্টরের (নৌ সেক্টর) কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না; এ সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা যখন যে সেক্টরে অপারেশন চালাতেন, তখন সে সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের অধীনে থাকতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশির ভাগ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছিল সীমান্ত এলাকায় এবং ভারতের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ লাভ করত। সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করার জন্যে তিনটি ব্রিগেড (১১ ব্যাটালিয়ন) তৈরি করা হয়। এছাড়াও প্রায় এক লাখ মুক্তিযোদ্ধাকে গেরিলা প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের ভেতরে নিয়মিত বিভিন্ন অপারেশনে পাঠানো হত।
আগস্টের পরপরই বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা পদ্ধতিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের দোসরদের ওপর হামলা চালাতে থাকে। পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে সামরিক স্থাপনা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট ইত্যাদি মুক্তিযোদ্ধদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। গেরিলা হামলায় পাকিস্তানের চৌকশ সামরিক বাহিনীকে নাজেহাল করে তোলে স্বল্প দিনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঙালি গেরিলা যোদ্ধারা। এমনকি রাজধানী ঢাকায় ক্রাক প্লাটুন দুঃসাহসী সব অভিযান চালায়। ১৬ আগস্ট ১৯৭১ নৌ-কমান্ডোরা অপারেশন জ্যাকপটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করে থাকা পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মাইন দিয়ে ধ্বংস করে দেয়। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল শত্র“মুক্ত হতে শুরু করে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর
মুক্তিবাহিনী তীব্র আক্রমণের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী সীমান্ত পোস্টগুলো একে একে দখল করে নিতে শুরু করে। বাংলাদেশের নিয়মিত বাহিনী কমলপুর, বিলোনিয়া, বয়রা প্রভৃতি সীমান্ত পোস্টে হামলা করে এবং ৩০৭টি পোস্টের ৯০টিই দখল করে নেয়। পাশাপাশি গেরিলা বাহিনীর হামলাও তীব্রতর হয়ে ওঠে। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর নিয়মিত কাজ ছিল সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করা এবং দেশপ্রেমিক বাঙ্গালিদের নির্যাতন করা। সীমান্তে ও দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড আক্রমণের জবাবে তারা এ অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অক্টোবরের শেষের দিকে মুক্তিবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে তারা দিনের বেলাতেও নিজেদের সামরিক ঘাঁটি থেকে বের হতে ভয় পেত। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জরুরি ভিত্তিতে পাঁচ ব্যাটালিয়ন সৈন্য তলব করা হয়।
৪ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আহুত নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি সম্বলিত মার্কিন প্রস্তাব পেশ করার প্রস্তুতি নেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে উপমহাদেশের সংঘাতের জন্য মুখ্যত ভারতকে দায়ী করেন। নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন শুরু হবার পর মার্কিন প্রতিনিধি জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, ভারত ও পাকিস্তানের সৈন্য স্ব-স্ব সীমান্তের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া এবং সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবকে ক্ষমতা প্রদান করার জন্য এক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সোভিয়েট ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) প্রতিনিধি এই প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ বলে অভিহিত করে ভেটো (ভোটো মানে- আমি মানি না) প্রয়োগ করেন। পোল্যান্ডও প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। ফ্রান্স ও ব্রিটেন ভোট দানে বিরত থাকে।
imagesপাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবস্থা দেখতে দেখতে এত খারাপ হয়ে যায় যে, কোন সমাধান খুঁজে না পেয়ে ডিসেম্বরের ৩ তারিখ ভারতে আক্রমণ করে বসে। তখন পাকিস্তানের উদ্দেশ্য ছিল হঠাৎ আক্রমণ করে ভারতের বিমান বাহিনীকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেয়া। কিন্তু তারা সেটি করতে সক্ষম হয়নি। ভারত সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশে তার সেনাবাহিনী নিয়ে প্রবেশ করে। বাংলাদেশের ভেতর তখন পাকিস্তানের পাঁচটি পদাতিক ডিভিশন। ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হবার পর সেটি চলে মাত্র ১৩ দিন। যুদ্ধ শুরু হবার পর পাকিস্তানের একটি একটি করে ঘাঁটির পতন হতে থাকে। যৌথবাহিনী তাদেরকে পাশ কাটিয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুততর গতিতে ঢাকার কাছাকাছি এসে হাজির হয়ে যায়। তারা ঢাকা ঘেরাও করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার জন্য আহ্বান জানায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় রেডকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশ: ১৯৭২-বর্তমান
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে আসেন। এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ১৯৭৫ সালের শুরুতে অরাজক অবস্থা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে দেশে বাকশালের অধীনে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু অরাজক অবস্থা দিন দিন বাড়তে, একই সঙ্গে বাড়তে থাকে চাপা ক্ষোভ। দেশের এরকম একটি দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। ক্ষমতার মঞ্চে আসে সাময়িক পরিবর্তন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
কিন্তু শাসন ক্ষমতা নিয়ে গোপনে ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। পরবর্তী তিন মাসে (১৯৭৫) একাধিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা-অভ্যুত্থান চলতে থাকে, যার সমাপ্তিতে জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি ক্ষমতার আসার পর থেকে দেশে ধীরে ধীরে স্থিতাবস্থা বিরাজ করতে শুরু করে। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে (এক অভ্যুত্থানে) নিহত হন। ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের পরবর্তী শাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রক্তপাতবিহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। এরশাদ স্বৈরশাসক হিসেবে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন হয়, বাংলাদেশ ফিরে আসে গণতন্ত্রের পথে। সেই থেকে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
পরিশেষে, স্বাধীনতার পর থেকে নব্বই এর দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনেকটাই হতাশাপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে সে অবস্থা আর নেই। বাংলাদেশ আজ মাথায় অনেক সাফল্যের মুকুট পরে ওঠে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিভাজন ভুুলে গিয়ে এবং দুর্নীতির মূল উৎপাটন করে জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিতে পারলে এ সাফল্য আরও দৃশ্যমান হবে, দেশে আসবে অথনৈতিক মুক্তি। আমরা পাব সত্যিকারের এক স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

প্রকাশ করা হয়েছে

Eshe_Gechi_Kachakachi-Arijit_Singh-Aditi_Paul-Antara_Mitra.golpojana.blo...

পোস্ট